1. admin@dainikkhoborchitra.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০১:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাজারহাট শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এর ৭২তম জন্ম বার্ষিকী পালিত- যশোর আরবপুরে করোনা রুগীর আত্মহত্যা কলারোয়ায় নতুন করে আরো ৫ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে মোংলায় মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল’র জন্মদিনে দোয়া মাহফিল কেশবপুরে বাল্যবিবাহ বন্ধ করলেন এ্যাসিল্যান্ড ইরুফা সুলতানা কেশবপুরে ভ্রাম্যমান আদালতে ৬ জনকে জরিমানা করেছে কেশবপুরের গৌরীঘোনা ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ডের চাউল বিতরণ বানেশ্বর-ঈশ্বরদী নির্মাণাধীন সড়কে ব্যাক্তি মালিকানা জমি জোরপূর্বক ব্যাবহারের অভিযোগ বাঘার হত্যা মামলার পলাতক আসামী নাটোরে গ্রেফতার ছাতকে নৌ-পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ঢাকা থেকে পৌর কাউন্সিলর তাপস চৌধুরীসহ গ্রেফতার ৫

ঈদকে ঘিরে বিধিনিষেধ শিথল হচ্ছে আর মৃত্যুর মিছিল যেন বৃদ্ধি পাচ্ছে

দৈনিক খবরচিত্র ডেস্ক
  • সময় : বুধবার, ১৪ জুলাই, ২০২১
  • ৫৪ বার পঠিত
সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

আরাফাত হোসেন কয়রা, খুলনা জেলা প্রতিনিধি।

১১ দিনে মৃত্যু মৃত্যু ১৭২, শনাক্ত ৩৪৩০
২৪ ঘন্টায় বিভাগে মৃত্যু -৪৮, শনাক্ত ৬৪২
৪ হাসাপাতালে করোনা ও উপসর্গে মৃত্যু ১৭
২৩ জুলাই থেকে ফের কঠোর বিধি নিষেধ জারীর সম্ভাবভনা।

খুলনায় জুলাই মাসে গত ১১ দিনে করোনার মৃত্যু চেয়ে শনাক্ত বেশি হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৭২ জনের। শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৪৩০ জন। এই কয়দিনে বিভাগের মধ্যে খুলনা জেলাতে করোনার মৃত্যুতে ও শনাক্তে সর্বোচ্চ রয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় খুলনায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের এবং শনাক্ত হয় ৩৪২ জন। এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় খুলনা বিভাগে ৯ জেলায় ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৫১ জন। অন্যদিকে একদিনে নগরীর চার হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ সব তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে আগামী ২১ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে করোনাভাইরাস মহামারি বিস্তার রোধে বিভিন্ন বিষয়ে সরকার আরোপিত বিধিনিষেধ আগামী ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত শিথিল করা হচ্ছে। সোমবার এক সরকারি তথ্যবিবরণীতে এ কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আজ মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তবে আগামী ২৩ জুলাই থেকে আবার কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হবে। তবে কোন কোন বিষয়ে শিথিলতা আসবে সেই বিষয়ে তথ্যবিবরণীতে কিছু বলা হয়নি।
খুলনা পরিচালক বিভাগ (স্বাস্থ্য) এর দপ্তরের সূত্র মতে, ১ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ১২ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ১১ দিনে খুলনাতে মৃত্যু হয়েছে ১৭২ জনের। এ সময়ে করোনায় শনাক্ত হয়েছে ৩৪৩০ জনের। স্বাস্থ্য অধিদফতরের জেলাভিত্তিক করোনা সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১ জুলাই খুলনায় মৃত্যু হয় ৮ জন এবং শনাক্ত হয় ২৪২ জন। এছাড়া ২ জুলাই মৃত্যু-৯, শনাক্ত ২২৩ জন, ৩ জুলাই মৃত্যু ১১, শনাক্ত ৭৪ জন, ৪ জুলাই মৃত্যু ১৫, শনাক্ত ১৫০ জন, ৫ জুলাই মৃত্যু ১৩, শনাক্ত ২৩৯ জন, ৬ জুলাই মৃত্যু ১৪, শনাক্ত ৩৪৯ জন, ৭ জুলাই মৃত্যু ২১, শনাক্ত ৫৮৫ জন, ৮ জুলাই মৃত্যু ২১, শনাক্ত ৩৩৮ জন, ৯ জুলাই মৃত্যু ২৩, শনাক্ত ২৯৬ জন, ১০ জুলাই মৃত্যু ১০ জন, শনাক্ত ১৬১ জন, ১১ জুলাই মৃত্যু ১৪ জন, শনাক্ত হয়েছে ৪৩১ জন এবং গতকাল সোমবার ( ১২ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত খুলনা মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। এ সময়ে শনাক্ত হয়েছে ৩৪২ জন।
এদিকে খুলনা বিভাগে রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আরও ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৪২ জনের। স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনা জেলায়। বাকিদের মধ্যে যশোরে ১২ জন, কুষ্টিয়ায় ৯ জন, ঝিনাইদহে ছয়জন, চুয়াডাঙ্গায় তিনজন, বাগেরহাটে দুজন, সাতক্ষীরা, নড়াইল এবং মাগুরায় একজন করে মারা গেছেন। এ সময়ে খুলনা জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩৪২ জনের। এছাড়া বাগেরহাটে শনাক্ত ১৯৬ জন, সাতক্ষীরায় শনাক্ত ১১৬ জন, যশোওে শনাক্ত হয় ৩১১ জন, নড়াইলে শনাক্ত ৬৭ জন, মাগুরায় শনাক্ত ৫৮ জন, ঝিনাইদহে শনাক্ত ৯০ জন, কুষ্টিয়ায় শনাক্ত ২৭৭ জন, চুয়াডাঙ্গায় শনাক্ত ১২৮ জন এবং মেহেরপুরে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৫৭ জন।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় নগরীর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল সংলগ্ন করোনা ইউনিটে ১০ জন, শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের করোনা ইউনিটে একজন, জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে তিনজন ও বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
খুমেক হাসপাতালের আরএমও ও করোনা ইউনিটের ফোকাল পার্সন ডা: সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় পাঁচ ও উপসর্গ নিয়ে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তিরা হচ্ছেন- নগরীর নিরালার আবুল হোসেন (৪৫), পাইকগাছার মহিউদ্দিন সরদার (৭৫), খালিশপুরের আসমত শেখ (৮০), খালিশপুরের জাহিদ (৩৫) ও সোনাডাঙ্গার পলি (৩২)। জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা: কাজী আবু রাশেদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হচ্ছেন-খুলনা মহানগরীর মুন্সিপাড়ার শামসুন্নাহার (৪৫), দৌলতপুরের রেলগেট এলাকার মো. আলী আকবর (৬১) ও রূপসা আনন্দনগরের আজিজুর রহমান (৭৫)।
শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের ফোকাল পারসন ডা: প্রকাশ দেবনাথ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মহানগরীর আড়ংঘাটার আফসার আলী (৭০) মারা গেছেন।
বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ডা: গাজী মিজানুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- খুলনা নগরীর টুটপাড়ার সালেহা বেগম (৮৬), স্যার ইকবাল রোডের মুসতারী (৮২) এবং বাগেরহাটের কচুয়ার শেখ জাফর আহম্মেদ (৮৯)।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানা গেছে, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আগামী ১৫ জুলাই থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে সব ধরনের গণপরিবহন। একইসঙ্গে খুলবে দোকানপাট-শপিংমল, সেক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে। সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে সরকার। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সাধারণ মানুষের আর্থিক দিক বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলমান লকডাউন মেয়াদ ২৩ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়িয়ে বিধিনিষেধ শিথিল করার কথা ভাবা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি করা হবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সামনে কোরবানির ঈদ। বসবে পশুর হাট। মানুষ কোরবানির পশু কিনতে বাজারে যাবে। তাই এই সময়ে লকডাউন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়মেই এটি বড় ধরনের চাপ। কোন কৌশলে মানুষকে লকডাউনের মধ্যে কোরবানির ঈদ উদযাপন করানো যায় এবং সামান্য কিছু মানুষকে দিয়ে কোরবানির পশু কেনানো যায় সে বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের তৃতীয় সপ্তাহ খুবই জরুরি। গত দুই সপ্তাহের লকডাউনের অর্জন নির্ভর করছে তৃতীয় সপ্তাহের কার্যক্রমের ওপর। সব দিক দিয়েই ১৪ তারিখের পর থেকে পরবর্তী সাতদিন অর্থাৎ কোরবানির দিন ২১ জুলাই পর্যন্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকার এবার আরও কঠিন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভেবেচিন্তে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দিতে চায় বলে গত রোববার জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে কিছুই বলা ঠিক হবে না। ১৪ জুলাইয়ের পরও সরকারি বিধিনিষেধ (লকডাউন) থাকছে কিনা – সেটি বিদ্যমান পরিস্থিতি কঠিনভাবে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে যাই হোক এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা জারি করা হবে মঙ্গলবার। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এক সভা শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গ্রামের গরীব মানুষ যারা সারাবছরে পালিত পশু বিক্রির জন্য কোরবানির এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করে, সেদিকটি বিবেচনায় নিয়ে চলমান লকডাউন শিথিল করার কথা ভাবতে পারে। এদিকে লকডাউনের মেয়াদ যে ১৪ জুলাইয়ের পরেও বাড়ছে তার ইঙ্গিত দিয়ে বন্ধ ঘোষণা করা সরকারি বেসরকারি অফিস আদালত ভার্চুয়ালি পদ্ধতিতে পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে গত রোববার ১১ জুলাই দুপুরে আদেশ জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর