1. admin@dainikkhoborchitra.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০১:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মোংলায় শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এর ৭২তম জন্ম বার্ষিকী পালিত মৃত্যু একদিনও ঘুমাতে দিল না কোটি টাকা দিয়ে তৈরি বাড়িতে,মুজিবুর রহমান কে রাজারহাট শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এর ৭২তম জন্ম বার্ষিকী পালিত- যশোর আরবপুরে করোনা রুগীর আত্মহত্যা কলারোয়ায় নতুন করে আরো ৫ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে মোংলায় মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল’র জন্মদিনে দোয়া মাহফিল কেশবপুরে বাল্যবিবাহ বন্ধ করলেন এ্যাসিল্যান্ড ইরুফা সুলতানা কেশবপুরে ভ্রাম্যমান আদালতে ৬ জনকে জরিমানা করেছে কেশবপুরের গৌরীঘোনা ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ডের চাউল বিতরণ বানেশ্বর-ঈশ্বরদী নির্মাণাধীন সড়কে ব্যাক্তি মালিকানা জমি জোরপূর্বক ব্যাবহারের অভিযোগ

২০-২১ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টম হাউসে রাজস্ব ঘাটতি ২ হাজার কোটিরও বেশি

দৈনিক খবরচিত্র ডেস্ক
  • সময় : শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১
  • ৫৯ বার পঠিত
সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

মোঃ মনিরুজ্জামান

দেশের বৃহত্তর স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টম হাউসের রাজস্ব ঘাটতি প্রায় প্রতি বছরই হয়ে থাকে, সেই ধারাবাহিকতায়
২০২০-২১ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টম হাউসে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ২ হাজার ১৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা প্রায়, বছরটিতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ছয় হাজার ২৪৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা, কিন্তু পরিতাপের বিষয় আদায় হয়েছে মাত্র চার হাজার ১০০ কোটি টাকা।

তবে রাজস্ব আয়ে এমন ধস নামলেও বেনাপোল কাস্টম কর্মকর্তারা বলছে, আগের বছরের চেয়ে এ বছর রাজস্ব আয়ের ঊর্ধ্বমুখী অনেক বেশি।
এর আগেও ২০১৯-২০ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছিল তিন হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ঘাটতি ১১৪৫ কোটি টাকা, ২০১৭-১৮-তে ঘাটতি ১৭৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বেশি আদায় হয়েছিল ৪৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

আবার ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ঘাটতি ২০৩ কোটি টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ঘাটতি ৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ঘাটতি ১৩৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, ২০১২-১৩-তে ঘাটতি ৪৫২ কোটি ৮৯ লাখ এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৯৪ কোটি টাকা।

তবে বেনাপোল কাস্টম হাউসে অনিয়মের তালিকা অনেক দীর্ঘ শুল্ক ফাঁকি ও অব্যবস্থাপনায় অনেক ব্যবসায়ী এ বন্দর ছেড়ে চলে যাওয়ায় গত ৭-৮ বছর ধরে এ কাস্টম হাউসে রাজস্ব ঘাটতি হয়ে আসছে বলে অভিযোগ অনেক ব্যবসায়ীর।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে
আমদানিকারক পিয়াস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর হোসেন জানায় বেনাপোল বন্দর থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করে থাকে। তবে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা একেবারে ভালো নয় ব্যবসায়ীদে নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে বন্দরে পণ্যের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয়। বন্দর থেকে পণ্য চুরি, বারবার রহস্যজনকভাবে অগ্নিকাণ্ডে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে, এছাড়া এ বন্দর দিয়ে মাদক প্রবেশ বেড়ে যাওয়ায় ঝামেলা এড়াতে সত ব্যবসায়ীরা বন্দর ছেড়ে চলে গেছেন অন্য বন্দরে। এসব কারণে পর পর ৮/৯ বছর ধরে এ বন্দরে আমদানি পণ্য থেকে কাস্টম কর্তৃপক্ষ চাহিদা মত রাজস্ব আহরণ করতে পারছেন না।
যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, বেনাপোল কাস্টমে আমদানি পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষণের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেই। এতে খুলনা ও ঢাকা থেকে পরীক্ষা করাতে মাসের অধিক সময় লেগে যায়। ফলে যেমন প্রচুর সময় অপচয় হয় তেমনি বন্দরে আটকে থাকা পণ্যে ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বেনাপোল কাস্টম হাউসে বিএসটিআই ও বিএসআইরের শাখা স্থাপনের দাবি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এতে অনেক ব্যবসায়ী এ বন্দর ছেড়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে রাজস্ব আয় কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটিও একটি বড় কারণ বলে মন্তব্য করেন এ ব্যবসায়ী।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, গেল দুই বছর করোনার কারণে ব্যবসায়ীরা ভারতে যেতে না পেরে চাহিদা মত পণ্য আমদানি করতে পারেননি। এতে রাজস্ব আয় ব্যাহত হয়েছে। তবে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে যে সকল অবকাঠামো বেনাপোল বন্দর ও কাস্টম হাউজে থাকার কথা তা অনেকটা নেই। এতে লোকসানের কবলে পড়ে অনেকে এ পথে বাণিজ্য বন্ধ করেছেন। এটাও বেনাপোল বন্দরে কয়েক বছর ধরে রাজস্ব ঘাটতির কারণ বলে ধারণা করছে অনেকেই
বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার জানান, বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে ইতোমধ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। পণ্যগারের জন্য জমি অধিগ্রহণ, নতুন পণ্যগার নির্মাণ ও বন্দর এলাকায় রাস্তাঘাটের উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। এছাড়া বন্দরে আরও জমি অধিগ্রহণ ও পণ্যের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ চলমান বলেন তিনি।
বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন রাজস্ব আয়ের পরিমাণ কমলেও রাজস্ব আহরণের ঊর্ধ্বমুখী বেশি ছিল। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর রাজস্ব বেশি আদায় হয়েছে ১ হাজার ৫১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া দেশে প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে করোনার প্রভাব চলছে। করোনা সংক্রমণ রোধে কয়েক মাস বেনাপোল-পেট্রোপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ রাখা হয়েছিল।
করোনার মধ্যে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়লেও উচ্চ শুল্কহারের পণ্য কম এসেছে। তবে তারা ব্যবসায়ীদের বৈধ সুবিধা বাড়ানোর পক্ষে কাজ করছেন। যারা অনিয়ম করার চেষ্টা করেছেন তাদের জরিমানা, লাইসেন্স বাতিলসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এরই মধ্যে বন্দর কর্তৃপকে চিঠি দেয়া হয়েছে বলেন কাস্টমসের এই কর্মকর্তা।


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর